কড়া পদক্ষেপ পাকিস্তানের
পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ফের স্বাধীনতার ডাক বালোচিস্তানে। ১১ অগস্টকে স্বাধীনতা দিবস হিসেবে পালনের ঘোষণা করেছে বালোচ স্বাধীনতাপন্থীরা। আর সেই কর্মসূচি ঠেকাতেই তৎপর ইসলামাবাদ। কারফিউ জারির পাশাপাশি শুরু হয়েছে ধরপাকড়। একাধিক এলাকায় বন্ধ করা হয়েছে ইন্টারনেট পরিষেবাও।
১১ অগস্ট ঘিরে বালোচিস্তানে উত্তেজনা
বালোচ স্বাধীনতাপন্থীদের দাবি, ১৯৪৭ সালের ১১ অগস্টই বালোচিস্তানের স্বাধীনতার দিন। সেই ইতিহাসকে সামনে রেখেই এবার থেকে প্রতিবছর দিনটি স্বাধীনতা দিবস হিসেবে পালনের ঘোষণা করা হয়েছে।
১১ অগস্ট বাড়ি, বাজার, দোকান এবং বিভিন্ন জনবহুল এলাকায় বালোচিস্তানের পতাকা তোলার ডাক দেওয়া হয়েছে। বিদেশে থাকা বালোচদেরও দিনটি পালনের আবেদন জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে এই কর্মসূচি আটকাতে কড়া পদক্ষেপ করেছে পাকিস্তানি প্রশাসন। সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ১৫ অগস্ট পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয়েছে অভিযান ও ধরপাকড়। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ইন্টারনেট পরিষেবাও।

পাক সেনার কড়া পদক্ষেপ, পালটা হুঁশিয়ারি
বালোচিস্তানের স্বাধীনতাপন্থী সংগঠন বালোচ লিবারেশন আর্মি (BLA) পাকিস্তানের এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করেছে।
BLA নেতা মির ইয়ার বালোচের দাবি, নিষেধাজ্ঞা জারি করেও ১১ অগস্টের কর্মসূচি আটকাতে পারবে না পাকিস্তান। তাঁর বক্তব্য, স্বাধীনতা দিবস পালনের জন্য ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু করেছেন বালোচরা।
ফলে একদিকে পাকিস্তানি প্রশাসনের কড়া নজরদারি, অন্যদিকে স্বাধীনতাপন্থীদের কর্মসূচি—১১ অগস্টকে ঘিরে বালোচিস্তানে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কেন ১১ অগস্টকেই স্বাধীনতা দিবস?
১১ অগস্টকে ঘিরে বালোচিস্তানের স্বাধীনতাপন্থীদের দাবি ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত।
তাঁদের বক্তব্য, ১৯৪৭ সালের ১১ অগস্ট ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল বালোচিস্তান। সেই ঐতিহাসিক দাবিকেই সামনে রেখে দিনটিকে স্বাধীনতা দিবস হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।
ভারত-পাকিস্তান স্বাধীন হওয়ার আগের সেই সময়ের ইতিহাসকেই বর্তমান আন্দোলনের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরছেন বালোচ স্বাধীনতাপন্থীরা।

দীর্ঘদিনের সংঘাত, বাড়ছে চাপ
বালোচিস্তান নিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে স্বাধীনতাপন্থীদের সংঘাত দীর্ঘদিনের। বালোচ লিবারেশন আর্মি পাকিস্তানি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সশস্ত্র আন্দোলন চালিয়ে আসছে।
খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ এই প্রদেশের সম্পদের উপর স্থানীয় মানুষের অধিকার, রাজনৈতিক স্বাধীনতা এবং পাকিস্তানি প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভ রয়েছে।
চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর বা CPEC নিয়েও বালোচিস্তানে অসন্তোষ রয়েছে। স্বাধীনতাপন্থীদের অভিযোগ, বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় মানুষ তার যথেষ্ট সুফল পান না।
এই পরিস্থিতিতে ১১ অগস্টের স্বাধীনতা দিবসের ঘোষণা পাকিস্তানের কাছে নতুন করে চাপ তৈরি করেছে।
১১ অগস্ট কী কর্মসূচি?
স্বাধীনতাপন্থীদের ঘোষণা অনুযায়ী, ১১ অগস্ট বালোচিস্তানের বিভিন্ন জায়গায় পতাকা উত্তোলন করা হবে। বাড়ি থেকে বাজার—বিভিন্ন জায়গায় স্বাধীনতা দিবস পালনের ডাক দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু তার আগেই পাকিস্তানের কড়া পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
কারফিউ, ১৪৪ ধারা, ধরপাকড় এবং ইন্টারনেট বন্ধ—সব মিলিয়ে ১১ অগস্টের আগে থেকেই বালোচিস্তানে চাপ চরমে।
একদিকে স্বাধীনতার দাবিতে বালোচদের প্রস্তুতি, অন্যদিকে তা আটকাতে পাকিস্তানের কড়া পদক্ষেপ। ফলে ১১ অগস্ট বালোচিস্তানের রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন হয়ে উঠতে চলেছে।
NewsNext9 Take
১১ অগস্টকে স্বাধীনতা দিবস হিসেবে পালনের ঘোষণা বালোচিস্তানের দীর্ঘদিনের স্বাধীনতা আন্দোলনকে ফের সামনে নিয়ে এসেছে। পাকিস্তানের কড়া পদক্ষেপের মধ্যেই স্বাধীনতাপন্থীদের কর্মসূচি ঘিরে নজর রয়েছে গোটা বিশ্বের। ১১ অগস্ট বালোচিস্তানে কী ঘটে, সেদিকেই এখন নজর।